
Dani Jarque, siempre con nosotros- স্প্যানীশ ভাষায় লেখা কথাগুলোর মানে বুঝিনি প্রথমে, কিন্তু ইনিয়েস্তার গোল উদযাপনের দৃশ্যটা চোখে লেগে ছিলো। ওয়ার্লড কাপ ফাইনালে গোল করার পর একটানে খুলে ফেললো নীল টি-শার্টটা। ভিতরের সাদা স্কীনটাতে স্প্যানীশ ভাষায় প্রয়াত সতীর্থ, বাল্যবন্ধু এস্পানিওল কাপ্তান-ডেনী জার্কের জন্য লেখা ছিলো লাইনটা- Dani Jarque, always with us. এই না হলে ফ্রেন্ড!
………
মন খারাপ করা সময়ে পুরান ডায়েরীর পাতা উল্টাতে উল্টাতে চোখ আটকে গেলো অনেক বছর আগের এক পেপার কাটিঙ দেখে। সময় হিসেবে পাক্কা ষোল বছর!!

বরাবরের মতো সবজায়গাতেই প্রথম মাসুদ ভাই।কি পড়ালেখা, কি খেলাধুলায়। প্রথম গোলটা উনার করা। ক্লাস থ্রী-কি ফোরে পড়ার সময় ম্যাচটার স্মৃতিগুলো। আমলনামার একটা বড় অংশ আমাদের সবারই মাঠে প্রান্তরে চলে গেলো। অল্পতেই হাঁপিয়ে উঠেন দেখে প্রায়সময় গোল কিপিং-এ দাড়াতেন। আর প্র্যাকটিসের সময় বাড়িয়ে দেয়া লম্বা থ্রো গুলো সব আমার উদ্দেশ্যে। এই ম্যাচটায় যদিও বিপক্ষে ছিলেন, এই যা!
ঝাড়া দু মাস হতে চললো মাসুদ ভাই চলে গেলেন! হেলাল এর মেসেজ দেখার পর থেকেই যেনো ফিরে গেছি সেই ১৬ বছরের আগের মুহুর্তে। ১৬ বছর আগের দিনটাতে আমরা বাল্যবন্ধু সবাই যেনো ইনিয়েস্তা আর চিৎকার করে বলছি- Abdullahil Masud- always with us!
অনেক বছর আগে এই পাড়া-ওই পাড়া ফ্রেন্ডশীপ ম্যাচ/টুর্নামেন্ট খেলে আমরা ফ্রেন্ডশীপ ডে উদযাপন করতাম। ফ্রেন্ডশিপ ডে’র ইতিহাস কিন্তু দুঃখের। আমেরিকায় একজনকে মেরে ফেলা হয়েছিল আগষ্টের ফার্স্ট শনিবার।আর রবিবার তার ফ্রেন্ড সুইসাইড করে। মারুফ ভাই, হেলাল, যুবো, মঞ্জুর, মিশুক চন্দনপুরা বড় মসজিদে তৌহিদ ইনকিলাব ক্লাবে কোরান রিসাইটেশন ক্লাসে রমজানে লম্বা সময় কেটেছে আমাদের একসাথে শৈশবে।ইউর রিসাইটেশন ওয়াস মাইণ্ড ব্লোয়িং, ব্রো! সেবা প্রকাশনী, তিন গোয়েন্দার বই চালাচালি; আরো কত কি! আবার সেই আগস্ট, আবার রমাদান… এতগুলো বছর চলে গেলো মাঝখানে।
মেঘে মেঘে অনেক বেলা হয়ে গেলো। এই ঘাট, ওই ঘাট করতে করতে বন্ধুত্ব আর ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে এধার-ওধার। দিন শেষে তারপরো চাইল্ডহুড ফ্রেন্ডদের জায়গাটা স্পেশাল। সেমিস্টার ব্রেকে একবার দেখা হতোই। প্যারেডের আড্ডাতে ঘুরে ফিরে খেলা, মিউজিক, ক্যারিয়ার চিন্তা ভাবনা হাবি জাবি সব কিছু জগা-খিচুড়ী হয়ে যায়। বয়সের বাঁধা পেরিয়ে ৩-৪ বছরের বড়-ছোট সবাই সবাইকেই তুমি, তুই-তোকারি করে সবাই।
গেলো ফেব্রুয়ারি দেখা হলো। একসাথে সব চাইল্ডহুড ফ্রেন্ডরা মিলে আড্ডা দিবো প্ল্যান করছিলাম।সবাইকে নক করলাম, কারো সময় মিলছিলোনা। হাসতে হাসতে বলেন- আরে তুমি চলে আসো মেলবোর্ন! আয়াজ আছে, মারুফ আছে ওখানে আরেক চন্দনপুরা বানায় ফেলবো আমরা।
চন্দনপুরার ওই খেলার মাঠের দুইজন নাই হয়ে গেলো এই কবছরেই। চন্দনপুরার ওই মাঠের আরেকজন,মাটির দুবাইয়ের বাসিন্দা সাখাওয়াত-এর জানাজার আগে খন্দু ভাইয়ের বলা কথাটা খুব কানে বাজে : ‘‘Funeral is the greatest reunion you can ever have’’. তেরো নদী, সাত সমুদ্রের পাড়ে শুয়ে শুয়ে আমাদের নাড়িয়ে দিয়ে গেলি তুই, মাসুদ ভাই। ঠিকই একটা অনলাইন রি-ইউনিয়ন হয়ে গেলো আমাদের। স্টকহোমে ভোরবেলার আড্ডা থামিয়ে দেয়া হেলালের কান্নাভেজা খবরটাতে খালি বলেছি- Dost, we will meet again in hereafter. Abdullahil Masud…siempre con nosotros..Always with us. May Allah reward you highest dwelling in paradise. Ameen.


দু-ই-ই মাস হয়ে গেলো!! অস্ট্রেলিয়ায় আসার পর যে মৃত্যু সবচে' বেশী নাড়া দিয়েছে তা হলো মাসুদের মৃত্যু :( আল্লাহ ওকে জান্নাতে দাখিল করুন। আমীন।
ReplyDelete